Inspiration Story from Thomas Alfa Edison Life in Bengali

ছোটো একটি ছেলে, বয়স তখন সাত বছর হবে বোধ হয়, ভর্তি হলো তার নিজের শহর পোর্ট হিউরন (U.S. এর একটি শহর) এর একটি স্কুলে।জীবনের প্রথম স্কুলে অধ্যায়ন শুরু।পড়াশুনোয় মোটেই ভালো ছিলোনা ছেলেটি, তাই তাকে সদাই শুনতে হোতো বন্ধুদের বিদ্রুপ, তামাশা, হাসিঠাট্টা। তাকে নিয়ে স্কুলে সমস্যা লেগেই থাকত। ছয় মাস এই ভাবেই অতিবাহিত হয়।

সমস্যা দিন দিন বাড়তে দেখে স্কুলের শিক্ষকরা তার মাকে একটি ছিঠি পাঠায়। ছেলেটি ঘুনাক্ষরে জানত না ছিঠির মধ্যে কি লেখা আছে।

ছেলেটি চিঠি নিয়ে তার মাকে দেয়। চিঠি পড়ে মায়ের সে কি কান্না।সাড়ে সাত বছরের ছেলেটি মায়ের চোখের জল ই শুধু দেখেছিল, বুঝতে পারল না মায়ে কান্নার কারন। 

মাকে সে যখন কারন জিজ্ঞাসা করে তখন মা বলে……..



" তুমি পড়াশুনোয় এতো ভালো যে তোমাকে পড়ানোর জন্য স্কুলে কোনো ভাল স্যার নেই। তাই আর স্কুলে গিয়ে কাজ নেই আজ থেকে আমি তোমাকে পড়াব"

তার পর শুরু হলো মায়ের কাছে তার শৈশব জীবনের পড়াশুনা।  

দেখতে দেখতে বড় হলো ছেলেটি, পড়াশুনা করতে করতে যুক্ত হল রেল এর একটি চাকরিতে। পোর্ট হিউরন থেকে ডেট্রয়েটে। কিন্তু তার এই চাকরিতে মন কনোদিন লাগছিলনা। মন সবসময় ভেসে বেড়াতো নতুন কিছু করার তাগিদে।এই ভাবনায়  মেলন পার্ক এ তৈরী করল একটি ল্যাবরেটোরি। দিনরাত পরিশ্রম করতে লাগল ভেতরের ইচ্ছা শক্তিকে সাফল্যের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য। 

          হল ও তাই কল্পনা শক্তি ও বুদ্ধিমত্তার জোরে একদিন আবিস্কার করে ফেলল প্রথম ভাস্বর আলো।তারপর আরও কত কি। ইউনাইটেড স্টেটে ই প্রায় 1093 টি পেটেন্ট বানিয়ে ছিল তার জীবন দশায়। নিজের দেশের বাইরে তো আরও অনেক আছে।

          ছোট্টো বেলায় স্কুল জীবনে যারা তাকে নিয়ে হাসি হাসি ঠাট্টা করত, তাদের কাছে বুদ্ধিমত্তার জোরে প্রমান করেছিল সে নিজেকে।

          একদিন জিবনের মধ্যাহ্ন বেলায় তিনি হাতে পেয়ে যান তার মাকে দেওয়া স্কুল শিক্ষকেদের সেই চিঠি। চিঠি খুলে পড়তে পড়তে তার চোখে চলে আসে জল।সেই চিঠিতে লেখা ছিল……….

"আপনার ছেলে থমাস আলভা এডিসন পড়াশুনায় খুবই দুর্বল। আমরা এইরকম ছাত্র কে আর স্কুলে রাখতে চায় না। তাই তার ভর্তি বাতিল করা হচ্ছে"

এডিসন সেদিন খুঁজে পেয়েছিল তার মায়ের চোখের জলের কারন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *